দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী তেল আবিব। শনিবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজপথে নেমে প্রধান বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছান। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক মানুষ নেতানিয়াহুকে ইসরাইলের দীর্ঘতম মেয়াদে থাকা ‘বড় চালবাজ’ হিসেবে অভিহিত করে একে দেশটিতে পরিবর্তনের শেষ সুযোগ বলে মন্তব্য করেছেন।
নির্বাচনি ফলাফলে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টেছে। ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি এবং গাদি আইজেনকোটের জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। এককভাবে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায়, সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও আইজেনকোট আগে এই জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের দাবি তাকে বিবেচনা করার চাপে ফেলেছে। গাদি আইজেনকোট ও ইহুদি-ইসরাইলি অন্য নেতাদের উচিত সাধারণ মানুষের এই জোরালো দাবি মেনে নেওয়া। তবে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নতুন করে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে এই দলগুলোর সমর্থন পেলে তার পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব হতে পারে।
আল জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহ রামাল্লা থেকে জানান, মানুষ এই ভোটের মাধ্যমে প্রকৃত পরিবর্তন চায়। নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৯টি আসনে জয়লাভ করে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে আরব দলগুলোর বাক্সে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ভোট পড়েছে, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি।
এদিকে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের এই অভূতপূর্ব সমর্থনকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, আরব দলগুলো কাতার থেকে অর্থ এনে নির্বাচন ‘চুরি’ করার চেষ্টা করেছে। তবে কাতার এই অভিযোগকে ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার বলে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, ইসরাইলের চরম ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো এই ভোটদানকে ‘নির্বাচনি সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যায়িত করে এর তীব্র বিরোধিতা করছে। তারা এই ঘটনাকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের আক্রমণের সাথে তুলনা করার চেষ্টা করছে, যেখানে ১,২০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং জিম্মি করা হয়েছিল অনেককে। সেদিন হামাস যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরাইলে আক্রমণ চালিয়ে ১,২০০-র বেশি মানুষকে হত্যা এবং শতাধিক মানুষকে জিম্মি করে নিয়ে যায়।








