ট্রাইব্যুনাল সালিসের চেয়েও নিচে নেমে গেছে: প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার

Published: November 2, 2026, 12:45 pm

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার জেরার সময় বিচারিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন যে, ট্রাইব্যুনালের পরিস্থিতি সালিসের চেয়েও নিচে নেমে গেছে। সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরা চলাকালে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ কথা তখন লিখছিলেন ট্রাইব্যুনালের টাইপিস্ট। তা তদন্ত কর্মকর্তার সামনে থাকা মনিটরে ভাসছিল। ট্রাইব্যুনালে থাকা বড় দুটি মনিটরসহ অন্য মনিটরেও ভাসছিল।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে জেরা করছিলেন জিয়াউল আহসানের আইনজীবী মো. সাহিদুর রহমান।

এ সময় ট্রাইব্যুনালের বড় মনিটরগুলোতে জেরার তথ্য প্রদর্শিত হচ্ছিল।

জেরা চলাকালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তাকে মনিটরের তথ্যের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এই পর্যায়ে জিয়াউলের আইনজীবী নাজনীন নাহার প্রসিকিউটরদের উদ্দেশ্যে বলেন, সবাই মিলে যেন জেরার জবাব দেওয়া হয়। এই মন্তব্যের জেরে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার দাঁড়িয়ে বলেন, আপনার অনেক কথা সহ্য করা হচ্ছে এবং আপনি যা খুশি তা বলছেন। নাজনীন নাহার পাল্টা আঙুল উঁচিয়ে কথা বলার প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতির অবনতি হয়।

এক পর্যায়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, এই ট্রাইব্যুনাল সালিসের পর্যায়ে নেমে গেছে, এমনকি সালিসের চেয়েও নিচে চলে গেছে। এ সময় ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটরের কাছে জানতে চান তিনি কি কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছেন কি না। জবাবে প্রসিকিউটর জানান, তিনি চান কোর্টের পরিবেশ ফিরে আসুক। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিচারিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে কারণ একদিকে আসামি কথা বলছেন, অন্যদিকে আইনজীবীরাও অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তায় লিপ্ত হচ্ছেন।

পরবর্তীতে মুঠোফোনে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার জানান, এজলাসের ভেতরে ডিফেন্স কাউন্সিলরা রাগারাগি করছেন এবং জেরা না করার কথা বলছেন। ট্রাইব্যুনাল তার ডিসিপ্লিন বা ডেকোরাম রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে জিয়াউল আহসানকে সশরীরে ট্রাইব্যুনালে না এনে কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি শুনানিতে যুক্ত করার বিষয়টিও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে মুঠোফোনে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, কোর্টের মধ্যে একজন ডিফেন্স কাউন্সিল রাগ করেছেন। এই রাগ করা, রাগ ভাঙানোর মাঝখানে ট্রাইব্যুনাল এজলাসে বসে আছেন।

জেরার এক পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জিয়াউল আহসান র‍্যাব ও এনএসআইয়ে কর্মরত ছিলেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি এনএসআই কার্যালয়ে যাননি। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে জিয়াউল আহসানের যোগাযোগ ছিল বলে তিনি সূত্রের মাধ্যমে তথ্য পেয়েছেন এবং তা ডায়েরিতে লিখে রেখেছেন। ‘গলফ অপারেশনের’ কথা বলে দেওয়ায় আলকাছ মাঝিকে শেষ করে দিতে বলেছিলেন জিয়াউল আহসান।

জেরার সময় তদন্ত কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনা ও তারিক সিদ্দিকের সঙ্গে জিয়াউল আহসানের ফোনে কথোপকথন হয়েছে এমন কোনো ডিজিটাল প্রমাণ বা ডিজিটাল এভিডেন্স তার কাছে নেই। উল্লেখ্য, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে।