আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন সর্বাধিক জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীরা। সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সোমবার মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি জানান, স্থানীয় পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে উদ্যোগ নেবেন। নির্বাচনের সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হলে এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে এবং ভোট গ্রহণ ও আবেদন জমার দিনক্ষণ অনুযায়ী সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, যার জয়ের সম্ভাবনা বেশি তাকে প্রার্থী করা করা হবে। সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। এক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যাতা বিবেচনা করা হবে। ভোটগ্রহণ ও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ ঘোষণার পর দলীয় কার্যক্রমও সেই অনুযায়ী এগোবে।
দেশের বর্তমান শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টিতে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি ইন্ধনের তীব্র অভিযোগ তোলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি দাবি করেন, গত ৫ আগস্ট পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি প্রতিবেশি রাষ্ট্র থেকে নানামুখী প্ররোচনা দিচ্ছে এবং সাধারণ শ্রমিকদের ভুল তথ্য দিয়ে মাঠে নামাচ্ছে। এতে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সহিংস চত্বর থেকে গতকাল ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ সদস্যকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এমনকি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজ অপকর্মের কথা শিকার করে পোস্ট দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী। ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’— এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র আট মাসের মাথায় পুনরায় বিপ্লব ঘটানোর আহ্বানের যৌক্তিকতা বোধগম্য নয়। যেসব সংকট সংসদে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা সম্ভব, তা না করে লংমার্চের নামে সাধারণ মানুষকে উসকে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, একটি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৮ মাসের মধ্যে আবার বিপ্লবের কথা কেন বলা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়।
জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে রিজভী আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে থেকে প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের সংগ্রামের জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা জীবন দিয়েছেন ও রক্ত ঝরিয়েছেন। পক্ষান্তরে, জামায়াত নিজেদের আড়াল করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ভেতরে মিশে গোপন রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়েছে। এ কারণেই তারা মূলত একটি গুপ্ত সংগঠন হিসেবে ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিতি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী এবং সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল মালিক চৌধুরী।








