বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

Published: November 3, 2026, 11:25 am

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে মূল্যস্ফীতির নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে, যদিও আগের কার্যদিবসে ধাতুটির দাম প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ২ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯০৪ দশমিক ৬৯ ডলারে নেমে আসে। পাশাপাশি ডিসেম্বরের সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দর ১ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯১৪ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্বর্ণের বার ও কয়েনের চাহিদা দুর্বল হওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

তেলের বাজারে অস্থিরতার পেছনে রয়েছে ইরানের এক কর্মকর্তার মন্তব্য, যিনি জানিয়েছেন যে যুদ্ধের অবসানে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো অনেক দূরে। একই সময়ে ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উইজডমট্রির পণ্যবাজার কৌশলবিদ নিশতেশ শাহের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে এবং এর ফলে সুদের হারও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা স্বর্ণের বিনিয়োগের জন্য নেতিবাচক। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ বলে মনে করছেন, যা সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্যে উঠে এসেছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সরবরাহঝুঁকির কারণে জ্বালানির দাম উঁচু থাকায় কঠোর মুদ্রানীতির পক্ষে যুক্তি আরও জোরালো হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে সেই পরিস্থিতিই দেখা যাচ্ছে। সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বাড়ে সুদের হার বৃদ্ধি পেলে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে বাজারের নজর রয়েছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার সতর্ক করেছেন যে, ডেমোক্র্যাটদের বড় ধরনের বিজয় প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এসব খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়াকড়ি বাড়লে বিনিয়োগকারীরা অন্য খাতে লোকসান মেটাতে স্বর্ণের মজুদ কমিয়ে দিতে পারেন। অন্যদিকে, ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল চলতি বছর স্বর্ণে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪০০ মেট্রিক টন থেকে কমিয়ে ২০০ মেট্রিক টনে নামিয়ে এনেছে, যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার হার ইতিবাচক থাকবে বলে তারা জানিয়েছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪৮ দশমিক ৯৩ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দর ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪১৯ দশমিক ০৭ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৯৪০ দশমিক ৭৫ ডলারে অবস্থান করছে।