আরও শক্তিশালী হলো ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, ৪ সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা জারি

Published: October 27, 2026, 4:07 am

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও তীব্র আকার ধারণ করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় এই ঘূর্ণিঝড়টি ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছিল। বর্তমানে এটি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রস্থল থেকে ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এই গতিবেগ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকা উত্তাল থাকায় বঙ্গোপসাগরে থাকা সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

এই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া জানান, ঘূর্ণিঝড়টির বর্তমান গতিপথ ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে হওয়ায় বাংলাদেশে এর সরাসরি বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার উপকূলীয় এলাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে উঠে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের কিছু অংশে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

সর্বশেষ তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার এবং মোংলা ও পায়রা থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সতর্কবার্তা বলবৎ থাকবে।