আইনজীবীর: পরীমনির দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীর মাথা ফাটানোর

Published: November 5, 2026, 9:25 am

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে এই আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আদালত চত্বরে পরীমনির দেহরক্ষীদের আচরণ ও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এদিন পরীমনির সঙ্গে কালো পোশাক পরা ১১ জন দেহরক্ষী ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আদালতকক্ষে অতিরিক্ত ভিড় ও হট্টগোলের মধ্যে জামিন আবেদনের শুনানি হয়।

বিচারপ্রার্থীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

আদালত প্রাঙ্গণে পরীমনির দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে মো. সুজন নামের এক বিচারপ্রার্থীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক জমিসংক্রান্ত মামলার প্রয়োজনে আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুজন ও তাঁর বড় ভাই। সুজনের বড় ভাই জানান, তাঁরা সেখানে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, এমন সময় পরীমনির দেহরক্ষীরা তাঁদের ধাক্কা দেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার এক পর্যায়ে দেহরক্ষীরা সুজনের মাথায় আঘাত করলে সেখান থেকে রক্ত বের হতে থাকে। উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাঁকে পাশের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। সুজনের বড় ভাইয়ের ভাষ্যমতে, ‘আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ পরীমনির দুজন দেহরক্ষী এসে ধাক্কা দেয় আর মাথায় আঘাত করে।’ আদালতের সামনে পরীমনির দেহরক্ষীর আঘাতে মাথা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ করেন মো. সুজন নামের এক বিচারপ্রার্থী।

আদালতে ঢুকতে বাধা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে একটি সাদা ব্যক্তিগত গাড়িতে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান পরীমনি। দীর্ঘ সময় গাড়িতে অবস্থানের পর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি নামেন। এরপর লিফটে উঠে ভুল আদালতকক্ষে প্রবেশ করলে আইনজীবী ও সহযোগীদের মাধ্যমে সঠিক স্থানে যান। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতে পৌঁছে পেছনের বেঞ্চে বসেন। এ সময় পরীমনির সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে কর্তব্যরত সাংবাদিক ও আইনজীবীদের আদালতে ঢুকতে বাধা দেওয়া এবং অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। উপস্থিত আইনজীবী ও সাংবাদিকেরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানালে আদালতকক্ষে চরম হট্টগোল সৃষ্টি হয়। শুনানির পর আদালত ভবনের নিচতলায় থাকা কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর ও তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে। পরে অবশ্য সাংবাদিকেরা মুঠোফোন ফেরত পান। এরপর আরেকটি আদালতকক্ষে গিয়ে সেখানেও শুনানি হবে না জানতে পেরে একতলা নিচে সংশ্লিষ্ট আদালতে যান।

আইনজীবীর মন্তব্য ও নিরাপত্তার প্রশ্ন

ঘটনাপ্রবাহের বিষয়ে পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, তিনি নিজের চোখে এসব ঘটনা দেখেননি।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘যদি সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন কিছু ঘটে থাকে, তাহলে এটি অনাকাঙ্ক্ষিত।

তবে অনেক ভিড়ের মধ্যে কী ঘটেছে, তা আমি দেখিনি।

তিনি আরও বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা উচিত ছিল।

পুলিশ যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করত, তবে পরীমনি বা সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না।

অন্যদিকে, আদালতে আসার পর পরীমনিও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘কত বড় সাহস, গায়ের মধ্যে হাত দেয়। অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোন হাতে থাকা ওই ব্যক্তি জানান, তিনি কেবল ভিডিও করছিলেন। এরপর বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরীমনি গাড়িতে উঠে আদালত প্রাঙ্গণ ছাড়েন।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি ইতিহাস

  • ২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
  • মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের জুনে ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমনি তাঁকে গ্লাস ও মুঠোফোন ছুড়ে মেরে ভয়ভীতি দেখান।
  • পরীমনিও পাল্টা হিসেবে নাসিরসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন।
  • নাসির উদ্দিনের মামলায় গত বছরের ২৬ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করা হয়।
  • সেদিনও অনুপস্থিত থাকায় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল, পরবর্তীতে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।
  • বুধবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও পরীমনি হাজির না হওয়ায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন, যা আজ আত্মসমর্পণ করে বাতিল করা হয়।