যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের মূল্যে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। ডলারের মান কমে যাওয়া এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফায় ভাটার টানে বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর স্বর্ণের দাম গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা ১৮ মিনিটে স্পট গোল্ডের দর ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩০ ডলার ২৭ সেন্টে বিক্রি হয়েছে। দিনের লেনদেনের এক পর্যায়ে এই দাম ৪ হাজার ১৪৬ ডলার ৬৩ সেন্ট পর্যন্ত উঠেছিল, যা গত ২০ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। উল্লেখ্য, এর আগের দিন বুধবার স্বর্ণের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল, যা গত ১৯ আগস্টের পর এক দিনে সবচেয়ে বড় লাফ। চলতি সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২৫০ ডলারেরও বেশি বেড়েছে, অথচ গত শুক্রবার এটি এক বছরের সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৮৬৯ ডলার ৮৫ সেন্টে নেমে এসেছিল।
বাজারে এই অস্থিরতা প্রসঙ্গে স্যাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন জানান, মার্কিন নির্বাচনের পরপরই মূল্যবান ধাতুর বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম হ্রাস, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রশমিত হওয়া এবং ডলারের দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা আগে থেকে গড়ে রাখা বিক্রির অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অনুসরণ করা সুদের হার বাড়ানোর ধারায় যুক্ত হতে পারে ব্যাংকটি।
বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৯ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। নির্বাচনের ফলে ইরান যুদ্ধের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে এমন আশায় বিনিয়োগকারীরা তেল বিক্রিতে মনোযোগী হয়েছিলেন। জ্বালানির দাম কমলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমে এবং ডলার দুর্বল হলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে স্বর্ণ কেনা সাশ্রয়ী হয়, যা চাহিদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীরা এখন শুক্রবারের নন-ফার্ম পেরোলস প্রতিবেদনের দিকে নজর রেখেছেন। একই সময়ে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার স্পট সিলভার ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৫২ ডলার ৮০ সেন্টে, প্লাটিনাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫১৮ ডলার ৩০ সেন্টে এবং প্যালাডিয়াম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২২ ডলার ৮৯ সেন্টে লেনদেন হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর ডেলিভারির গোল্ড ফিউচার ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৩৯ ডলার ৬০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।








