সিম সোয়াপিংয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রতারণা ও অর্থ হাতানোর ঝুঁকি

Published: November 5, 2026, 10:25 am

মুঠোফোনে হঠাৎ নেটওয়ার্ক চলে যাওয়াকে অনেকে কেবল যান্ত্রিক ত্রুটি মনে করে অবহেলা করেন।

অথচ এই সুযোগটিই কাজে লাগায় সাইবার অপরাধীরা, যাকে বলা হয় ‘সিম সোয়াপিং’। এই পদ্ধতিতে তারা গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের সহায়তায় তার ফোন নম্বরটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্য একটি সিমে স্থানান্তর করে নেয়। সম্প্রতি এমন এক চক্রের বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ লাখ ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নরটনের তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সিম সোয়াপিংয়ের মাধ্যমে সারা বিশ্বে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার খোয়া গেছে বলে জানিয়েছে এফবিআই। সম্প্রতি এক চক্রের বিরুদ্ধে সিম সোয়াপিংয়ের মাধ্যমে ৮০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির অভিযোগ ওঠার পর এই প্রতারণা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

প্রতারণার এই কৌশলটি বেশ সুপরিকল্পিত। প্রথম ধাপে অপরাধীরা ফিশিং লিংক, ম্যালওয়্যার কিংবা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর নাম, জন্ম তারিখ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে তারা মোবাইল অপারেটর বা গ্রাহক সেবাকেন্দ্রে আসল গ্রাহক সেজে যোগাযোগ করে। সিম নষ্ট হয়ে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার অজুহাতে তারা নতুন একটি সিমে নম্বরটি স্থানান্তরের অনুরোধ জানায়। পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় কোনো দুর্বলতা থাকলে অপারেটর নম্বরটি হস্তান্তর করে দেয়, যার ফলে আসল গ্রাহকের সিমটি তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। টেকবার্তার সঙ্গে যোগাযোগ: [email protected]।

সিমটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আসার পর অপরাধীরা ভুক্তভোগীর ব্যাংক হিসাব, ই-মেইল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের দখল নেয়। তারা ‘ফরগট পাসওয়ার্ড’ অপশন ব্যবহার করে এবং ফোনে আসা ওটিপি বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন কোড সংগ্রহ করে মুহূর্তেই অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ভেঙে ফেলে। এরপর দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে তারা প্রকৃত ব্যবহারকারীকে তার নিজের ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং জমানো অর্থ হাতিয়ে নেয়। মুঠোফোনে আসা ওটিপি বা যাচাইকরণ কোড এখন আর কেবল সাধারণ বার্তা নয়, বরং এটি আপনার অনলাইন নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে। অথচ এই সুযোগেই আপনার ব্যাংক হিসাব থেকে গায়েব হয়ে যেতে পারে জমানো সব টাকা, হাতছাড়া হতে পারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ। ফলে ওই নম্বরে আসা সব ফোনকল, খুদে বার্তা এবং ব্যাংক বা অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশের ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ডের (ওটিপি) সরাসরি নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অপরাধীদের হাতে। কোনো সংস্থার ডেটাবেজ থেকে তথ্য ফাঁসের শিকার হলেও এসব বিবরণ অপরাধীদের হাতে পৌঁছে যায়। ফোনকল ও খুদে বার্তা পেতে শুরু করে প্রতারকেরা: নম্বর চালু হওয়ামাত্র আসল গ্রাহকের ফোনে নেটওয়ার্ক চলে যায় এবং অপরাধীর হ্যান্ডসেটে কল ও খুদে বার্তা আসতে শুরু করে।