নাসির উদ্দিনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

Published: November 4, 2026, 11:46 am

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ৪ নভেম্বর (বুধবার) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এই নির্দেশ দেন। মামলার নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় এবং বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) আদালতে একটি সময়ের আবেদন জমা দেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরীমণি এলার্জিজনিত শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, যার কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। সময় আবেদন মঞ্জুর না হলে আসামির অপূরণীয় ক্ষতি হবে জানিয়ে শুনানির তারিখ পেছানোর অনুরোধ জানান তিনি। তবে আদালত উক্ত আবেদন নাকচ করে দেন। বাদী ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত সোয়া ১টার দিকে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদী নাসির উদ্দিনকে ডাক দেন এবং তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসার অনুরোধ করেন। পরিমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা সুরভী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যথায় আসামির অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে।

অন্যদিকে, শুনানিকালে মামলার বাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন জানান। উক্ত সময়ে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে বিচারক পরীমণির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

মামলার পটভূমি থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে পরীমণিসহ তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন গভীর রাতে সাভারের বোট ক্লাবে ঢুকে পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবন করেন এবং পার্সেল নিয়ে বিল পরিশোধ না করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বাদীর সঙ্গে বাদানুবাদ তৈরি হলে পরীমণি তাঁকে লক্ষ্য করে গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন, যার ফলে নাসির উদ্দিন মাথায় ও বুকে আঘাত পান। সেই সঙ্গে তাঁকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢুকে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। একপর্যায়ে পরীমনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য বাদীকে চাপ দেন।

ঘটনাটি তদন্ত করে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই)। ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। তবে মামলার অন্য আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত। পরীমনি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করে হয়রানির ভয় দেখান।

উল্লেখযোগ্য যে, একই রাতে সাভার বোট ক্লাবের ঘটনায় পরীমণি নিজেও বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে আনা সেই মামলায় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করার অভিযোগ তোলা হয়। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।